adsterra

কোটা পদ্ধতি বিলুপ্ত না করে সংস্কার চান ক্ষমতাসীনরা,

 

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি নিয়ে চলমান বিতর্ক ও আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এই পদ্ধতির বিলোপ না করে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অনেকে মনে করছেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনের চাপে কোটা পদ্ধতির সম্পূর্ণ বিলোপ করা উচিত হবে না। তবে, তারা কোটা হার কমিয়ে এনে সবার স্বার্থ রক্ষা করতে চান।

সরকারের অবস্থান

সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে, কোটা পদ্ধতির সংস্কারে সরকার কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দিতে চায় না। যেহেতু বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন, সরকারের জন্য আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করাটাই সুবিধাজনক পথ হবে। আদালতের রায় অনুযায়ী সরকার কোটা পদ্ধতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

বর্তমান কোটা পদ্ধতি

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রযোজ্য। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, নারী কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী কোটা ১ শতাংশ। ২০১৮ সালের অক্টোবরে কোটাবিরোধী আন্দোলনের ফলে সরকার কোটা বাতিল করলেও, ২০২১ সালে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন উচ্চ আদালতে রিট করেন। ২০২৩ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট কোটা পুনর্বহাল করে রায় দেন। আপিল বিভাগে সরকারের স্থগিত আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে কয়েকজন মন্ত্রী বৈঠক করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতা। বৈঠকে কোটা পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয় এবং আইনমন্ত্রী কোটা পদ্ধতির আইনি পদ্ধতি কী হতে পারে তা নিয়ে বক্তব্য দেন।

আন্দোলনের চাপ ও সরকারী কৌশল

আন্দোলনের চাপে এখনই কোটা পদ্ধতির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। উচ্চ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় থাকার পক্ষে মত দেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। দলীয় একাধিক সূত্র মতে, মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটার বিষয়টি নিয়েই বেশি সমালোচনা হচ্ছে এবং এ কোটার হার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবির কাছে নত হয়ে কোটা বাতিলের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ।

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা আপিল করেছি। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় থাকতে হবে। জনদুর্ভোগ হয়—এমন কর্মসূচি পরিহার করা উচিত।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ২০১৮ সালে কোটা বিলোপের পরিপত্র বাতিল করে উচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন। সরকার আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং অ্যাটর্নি জেনারেল আপিল করেছেন।


সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি নিয়ে চলমান বিতর্ক ও আন্দোলনের মুখে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। আদালতের রায় অনুযায়ী কোটা পদ্ধতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। কোটাবিরোধী আন্দোলনের চাপে এই মুহূর্তে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম। আওয়ামী লীগ কোটা সংস্কারের পক্ষে, তবে আন্দোলনকারীদের দাবির কাছে নত হয়ে কোটা বাতিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

imagedepotpro থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.