adsterra

যানবাহনে বসে বসে নামাজ পড়ার বিধান কী

 


আল্লাহ মুমিন নর-নারীদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন এবং এর জন্য নির্ধারিত সময় নির্ধারণ করেছেন। মুমিনদের কর্তব্য হল, এই ফরজ নামাজ যথাসময়ে আদায় করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা মুমিনের অবশ্য কর্তব্য।’ (সুরা নিসা, আয়াত ১০৩)

নির্দিষ্ট সময়ে যথাযথভাবে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব হাদিসেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অবহেলা করলে জাহান্নামের হুমকি এসেছে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে পালন করবে, এবং অবহেলার কারণে এর কোনোটি পরিত্যাগ করবে না, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অঙ্গীকার করেছেন। আর যে ব্যক্তি তা (যথাযথভাবে) আদায় করবে না, তার জন্য আল্লাহর কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দেবেন কিংবা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস ১৪২০)

চলন্ত যানবাহনে নামাজ আদায়ের বিধান

সফরকালে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা কর্তব্য। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় জানা গুরুত্বপূর্ণ। তা হলো:

এক. চলন্ত জাহাজ, ট্রেন ও বিমানে নামাজ পড়া:

চলন্ত লঞ্চ, জাহাজ, ট্রেন ও বিমানে ফরজ নামাজ সম্ভব হলে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে রুকু-সিজদাসহ আদায় করবেন। দাঁড়ানো কষ্টকর হলে বসে স্বাভাবিক রুকু-সিজদা করে নামাজ আদায় করবেন। এভাবে নামাজ আদায় করতে পারলে পরবর্তী সময়ে তা পুনরায় পড়তে হবে না।

দুই. ইশারায় পড়া এবং পরবর্তীতে কাজা করা:  

কেবলামুখী হয়ে রুকু-সিজদার সঙ্গে নামাজ আদায় করা সম্ভব না হলে, যেভাবে সম্ভব বসে বা ইশারায় নামাজ পড়ে নেবেন। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এলে সতর্কতামূলক ওই ফরজ নামাজ পরবর্তী সময়ে আবার পড়ে নেবেন।

তিন. যানবাহন থেকে নেমে নামাজ পড়া:

বাসে সাধারণত দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে নামাজ পড়া যায় না, তাই কাছাকাছি যাতায়াতের ক্ষেত্রে ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব না হলে এবং নেমে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ না হলে পথিমধ্যে নেমে ফরজ নামাজ পড়ে নেবেন।

চার. ইশারায় পড়া ও পরে কাজা করা:

দূরের যাত্রায় বা নেমে গেলে ঝুঁকি বা সমস্যার আশঙ্কা থাকলে বাস না থামলে সিটে বসে বা ইশারায় নামাজ আদায় করে নেবেন এবং পরবর্তী সময়ে এর কাজা করে নেবেন।

পাঁচ. নামাজের জন্য যাত্রাবিরতি দেওয়া: 

দীর্ঘ যাত্রায় বাসচালকদের উচিত ফরজ নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে কোনো মসজিদে যাত্রাবিরতি করা। এ বিষয়ে বাস মালিকদেরও ইতিবাচক নির্দেশনা দেওয়া উচিত। মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতিগুলো যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে। যাত্রীদেরও কর্তব্য হলো, বাসের একজন মুসল্লি নামাজ পড়তে চাইলে বাস থামাতে চালককে অনুরোধ করা।

তথ্যসূত্র: ইলাউস সুনান: ৭/২১২; মাআরিফুস সুনান: ৩/৩৯৪; আদ্দুররুল মুখতার: ২/১০১।

কোন মন্তব্য নেই

imagedepotpro থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.